Share To Facebook

Share To Twitter

Share To Linkedin

Share To Whatsapp

Card image cap

আম্পান (Amphan) ঘূর্নিঝড়- এর প্রকৃতি, প্রভাব ও করনীয় পদক্ষেপ

নামকরণ:

২০০০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সভায় আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের সাইক্লোনের নামকরণ নিয়ে একটি ঐকমত্য হয়। ২০০৪ সাল থেকে এ অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেওয়া শুরু হয়। এক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত একটি নামের তালিকা থেকে একেকটি ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। কোনও ঝড়ের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৩৯ মাইল হয়, তাহলে তাকে একটি নাম দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া অফিসগুলো এই নামকরণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের নাম এমনভাবে দেয়া হয় যেন বিজ্ঞানী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই সহজে মনে রাখতে পারে।

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। থাইল্যান্ড এর নাম দিয়েছে আমফান।

 

প্রকৃতি:

গত বছরের ১০ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে আগানোর পরও বাঁক বদল করে সুন্দরবনের ওপর দিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ৮১ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা ঝড়ের প্রভাবে প্রচণ্ড বর্ষণ ও জলোচ্ছাসে বাংলাদেশ উপকূলের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীতে বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর পাশাপাশি বহু ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যায়, গাছাপালা উপড়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।

আমফানের গতিপ্রকৃতিও সেই রকম বলে ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা মনে করলেও এটি বুলবুলের পথ অনুসরণ করবে কিনা তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

 

অবস্থান:

দক্ষিন বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ঘূর্ণিঝড় Amphan আরও কিছুটা উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিন মধ্য বঙ্গোপসাগর তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আজ ১৮ ই মে দুপুর ১২ টা বেজে ১৫ মিনিটে  মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৯৮ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থান করছিলো, ঘূর্ণিঝড়  কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটার এর ভেতরে বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ১১০ ঘন্টায়  কিলোমিটার, যা সর্বোচ্চ ঝাপটা হিসেবে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুপার টাইফুন এ পরিণত হয়ে উঠছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপার সাইক্লোনে রূপ নিলে এই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ২২০ থেকে ২৬৫ কিলোমিটার। তবে উপকূলের কাছাকাছি আসতে আসতে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তখন বাতাসের এই গতিবেগ কিছুটা কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর  তীব্রতর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে মংলা ও পায়রার সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরগুনা,পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী, বরিশাল,ফেনী ও এদের উপকূলীয় দীপ ও চরগুলিতে আঘাত হানতে পারে।

 

প্রভাবঃ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনা পৃথিবীর এই অঞ্চলগুলোতে সাধারণ হলেও বিশ্বব্যাপী সাস্থ্য ঝুঁকিতে ভারত ও বাংলাদেশে এটিই প্রথম শক্তিশালী ঝড় বয়ে আনতে পারে। ঘূর্ণিঝড় 'আম্পানের' প্রভাবে দেশের ৫০ টি জেলার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে পরিপক্ব হয়ে ওঠা এসব ফসলের বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান, গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো ফলের ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পরিপক্ব সব শস্য, ফল, সবজি মাঠ থেকে দ্রুত কেটে তা সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে উপকূলের ২৪টি জেলায়। এর বাইরে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর বিভাগের বড় অংশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই এসব এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শরণার্থী শিবির (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) কক্সবাজার যেখানে প্রায় ১ মিলিয়ন শরণার্থী বাস করে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ভারি বর্ষণ বয়ে আনতে পারে।

 

পদক্ষেপ:

সাতক্ষিরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, ফেনী, নোয়াখালী, ও এর পার্শবর্তী এলাকায় যেসকল লোকজনের বাড়ি আসে তাদের  বাড়ির আসেপাশে যদি ভেঙ্গে পড়ার মতো কোন বড় গাছ থাকে তাহলে দ্রুত সে গাছের ডাল কেটে দিতে হবে।

আর সম্ভাব্য দূর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য সময় থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিয়ে রাখতে হবে।

বাড়ি ঘর দুর্বল থাকলে তা দ্রুত সারিয়ে নেওয়া, ফল বা অন্য কিছু থাকলে তা বিক্রি বা নিরাপদ স্থানে মজুদ করে রাখুন।

এই ঝড় সরাসরি উপকূলে আঘাত করলে কমপক্ষে কয়েকদিন  বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। জমিতে ধান থাকলে তা নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া।

Written by

Sadia Afrose

M.S. in Disaster Management(Ongoing) , University of Dhaka 

B.S. in Geology, University of Dhaka

Created: May 18, 2020 Last updated May 18, 2020